Home শিক্ষা ও ক্যারিয়ার প্রিয় স্কুল পুড়তে দেখে শিক্ষার্থীদের কান্না

প্রিয় স্কুল পুড়তে দেখে শিক্ষার্থীদের কান্না

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে গাইবান্ধার সদর উপজেলায় গণউন্নয়ন একাডেমি নামের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। এ অগ্নিকাণ্ডে বিদ্যালয় ভবনে থাকা ৭৭ জন এসএসএসি পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র পুড়ে ছাই হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ২০ হাজার এসএসসি ও জেএসসি পাস শিক্ষার্থীর সনদও পুড়ে গেছে। শুক্রবার প্রিয় বিদ্যালয়ের এ অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা নিয়ে অনিশ্চয়তায় উদ্বিগ্ন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষকদের কাছে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। শত্রুতাবশত ব্রহ্মপুত্র নদ তীরবর্তী চরাঞ্চল কুন্দেরপাড়ার এ বিদ্যালয় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

গণউন্নয়ন একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে হঠাৎ করে বিদ্যালয় ভবনে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন পুরো বিদ্যালয় ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। আগুনে অফিসসহ ৭টি কক্ষ, আসবাব ও বইপত্রসহ শিক্ষা সরঞ্জাম পুড়ে ছাই হয়ে যায়। অফিসকক্ষের আলমারিতে রাখা ৭৭ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র এবং শিক্ষার্থীদের ১২ বছরের কয়েক হাজার সনদ পুড়ে গেছে। তার দাবি, আগুনে বিদ্যালয়ের প্রায় কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণউন্নয়ন কেন্দ্রের অর্থায়নে ২০০৩ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। বর্তমানে এখানে ৫৯৭ ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করে।

প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু লোক সম্প্রতি স্কুলের কার্যক্রমে নানাভাবে বাধা দিয়ে আসছিল। তারা সেখানে আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে চায়। কিছুদিন আগে একাডেমির পাশেই একটি চক্র মাদক, জুয়া ও যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্যের আসর বসায়। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবারই কুন্দেরপাড়া স্কুল মাঠে এক সুধী সমাবেশ হয়। এসব কারণে ওই চক্রটি ক্ষিপ্ত হয়ে স্কুল ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে তার ধারণা।

কামারজানী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সালাম জানান, গণউন্নয়ন একাডেমি স্কুলটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। নারী শিক্ষার মান উন্নয়ন ও আবাসিক সুবিধা থাকায় প্রতিষ্ঠানটি চরাঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখছিল।

বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম. আবদুস সালাম বলেন, বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ফের শুরু করতে নতুন করে ভবন নির্মাণ করতে হবে। এ জন্য সময়ের প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা এখন লেখাপড়া কোথায় করবে তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় পড়েছি।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ছামছুল আজম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলীয়া ফেরদৌস জাহান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সদর থানার ওসি এ কে এম মেহেদী হাসান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনারও আশ্বাস দেন তিনি।