Home আন্তর্জাতিক সংবাদ এবার মেলানিয়া ট্রাম্পের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

এবার মেলানিয়া ট্রাম্পের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

এবার প্রশ্ন উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের ‘লিগ্যাল স্ট্যাটাস’ বা আইনগত অবস্থান নিয়ে। আরো একবার এমন প্রশ্ন উঠেছিল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে। তাতে মেলানিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ নাগরিক কিনা সে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এবার সেই একই বিষয় সামনে নিয়ে এসেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার একজন সিনেট সদস্য ন্যান্সি স্কিনার।

তিনি মেলানিয়া ট্রাম্পের অভিবাসন বিষয়ক ডকুমেন্ট প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন হোয়াইট হাউজের কাছে। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার অভিবাসন বিষয়ক যে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছেন তার প্রতিবাদ হিসেবে এমন দাবি জানিয়েছেন স্কিনার। এ ছাড়া ‘স্যাঙচুয়ারি সিটিস’ বা নিরাপদ শহরগুলোতে অর্থায়নে বিধিনিষেধ দিয়েছেন ট্রাম্প। তাতেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে ওই সিনেটরের মধ্যে। উল্লেখ্য, নিরাপদ শহরগুলো নিয়ন্ত্রণের কর্তৃত্ব স্থানীয় কর্তৃপক্ষের। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন বিষয়ক নীতি কার্যকরের ক্ষেত্রে ওই কর্তৃপক্ষ অস্বীকৃতি জানায়। ওদিকে ৭টি মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর আন্তর্জাতিক নিন্দার ঝড় বইছে। ব্যাপক বিক্ষোভ, প্রতিবাদ হচ্ছে। এ অবস্থায় ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের রাজধানীতে ‘পলিটিকো ক্যালিফোর্নিয়া’কে ন্যান্সি স্কিনার বলেছেন, মেলানিয়া ট্রাম্পের পূর্ণাঙ্গ আইনগত অবস্থান কি সে বিষয়ে কোনো ডকুমেন্ট এখনও প্রকাশ করেনি ট্রাম্প প্রশাসনের কেউ। মেলানিয়ার কি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধতা আছে কিনা সে বিষয়ে তার সম্পর্কে কোনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয় নি। তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু জানতে পারছি তাদের একজন আইনজীবী আছেন। মেলানিয়া কি কাগজপত্র দেখাবেন তা তিনিই দেখাশোনা করেন। উল্লেখ্য, মেলানিয়া ট্রাম্পের জন্ম স্লোভেনিয়ায়। তিনি ১৯৯৬ সালে তার মডেলিং ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান। তবে গত নভেম্বরে বার্তা সংস্থা এপির একটি তদন্তে বেরিয়ে আসে নতুন তথ্য। তাতে দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অধিকার অর্জনের আগেই মেলানিয়া যুক্তরাষ্ট্রে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ১০টি মডেলিংয়ের কাজ করেছেন। ২০০১ সালের মার্চে গ্রিন কার্ড পান বর্তমানের ফার্স্টলেডি মেলানিয়া। তারও ৫ বছর পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন। তবে মেলানিয়া বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন আইনগতভাবেই। তিনি কখনোই অভিবাসনের শর্ত ভঙ্গ করেন নি। আগস্টে এ নিয়ে কথা বলেন এখনকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তখন জানান তার স্ত্রীর কাছে সব ডকুমেন্ট আছে। তিনি ওই সময় কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মেলানিয়া এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানান। কিন্তু সেই সংবাদ সম্মেলন এখন পর্যন্ত হয় নি। ওদিকে ন্যান্সি স্কিনারের আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করেছেন রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির এক সদস্য হারমিট ঢিলন। তিনি পলিটিকো’কে বলেছেন, স্কিনারের ওই অনুরোধ হলো সস্তা কৌশল। ওদিকে অভিবাসন নীতির বিরোধিতা করায় সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত এটর্নি জেনারেলকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরপর পরই তিনি নতুন ভারপ্রাপ্ত এটর্নি জেনারেল নিয়োগ দিয়েছেন।